এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোয় চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের চাহিদা নিম্নমুখী ছিল। মূল্যবান ধাতুটির দামে অস্থিতিশীলতার কারণে এখনো চাহিদা কম বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে এ সময় আসন্ন উৎসব মৌসুম ঘিরে ভারতের গহনা ব্যবসায়ীরা আগের তুলনায় ক্রয় বাড়িয়েছেন। খবর রয়টার্স।
গতকাল ভারতে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল ৯৯ হাজার ৩০০ রুপি (১ হাজার ১৩৫ ডলার ৭৭ সেন্ট)। চলতি মাসের শুরুতে দেশটিতে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম রেকর্ড ১ লাখ ২ হাজার ২৫০ রুপিতে পৌঁছেছিল। মুম্বাইভিত্তিক এক বুলিয়ন ব্যবসায়ী বলেন, ‘স্বর্ণের দাম চলতি সপ্তাহে কিছুটা কমে এসেছে। এ কারণে আসন্ন উৎসব মৌসুম উপলক্ষে গহনা ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে আবার ক্রয় শুরু করেছেন।
চলতি সপ্তাহে ভারতীয় ডিলাররা স্বর্ণ বেচাকেনায় অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় আউন্সপ্রতি ২ ডলার ছাড় থেকে ৩ ডলার মূল্য সংযোজন (প্রিমিয়াম) করে বেচাকেনা করেছেন। এর আগের সপ্তাহে এ ছাড়ের পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ আউন্সে ৬ ডলার পর্যন্ত। তবে পুনেভিত্তিক জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান পিএন গাদগিল অ্যান্ড সনসের প্রধান নির্বাহী অমিত মোদক বলেন, ‘খুচরায় স্বর্ণ বিক্রির পরিমাণ এখনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মাত্র ৬০ শতাংশ।’
বিশ্বে শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ চীন। দেশটিতে চলতি সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বৈশ্বিক স্পট দামের তুলনায় ৩-৮ ডলার মূল্য সংযোজন করে বিক্রি হয়েছে। এ সময় বৈশ্বিক স্পট দাম দাঁড়ায় আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৩১১ থেকে ৩ হাজার ৩৫৮ ডলারের মধ্যে।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে সীমিত পরিসরে লেনদেন হচ্ছে। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) জ্যাকসন হোল সম্মেলন থেকে আসা যেকোনো খবরে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ওঠানামার সম্ভাবনা আছে।’
এদিকে হংকংয়ে চলতি সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণ সমমূল্য থেকে ১ ডলার ৭০ সেন্ট প্রিমিয়ামে বিক্রি হয়েছে।
এ সময় সিঙ্গাপুরে সমমূল্য থেকে ২ ডলার ৫০ সেন্ট প্রিমিয়ামে লেনদেন হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান লান বলেন, ‘খুচরায় ক্রয় কিছুটা বেড়েছে। তবে তা উল্লেখযোগ্য নয়। দাম বেশি থাকায় গহনা খাতে চাহিদা এখনো নিম্নমুখী।’